[X]

“বেনাপোল সীমান্তে বে-পরোয়া বিজিবি” শারিরিক নির্যাতন ও মামলার ভয়ে গ্রামছাড়া হচ্ছে সাধারণ জনতা

বেনাপোল : বেনাপোল সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) বে-পরোয়াভাবে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার ও মামলা দেওয়ায় “ভয়ে” গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে অসহায়ত্ব বরণকারি সাধারণ জনতা। প্রতিনিয়ত যাকে তাকে ধরে অমানুষিক ভাবে শারিরিক নির্যাতনসহ সাজানো মামলায় চালান দেওয়া এটা যেন বিজিবি’র জন্য নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাড়িয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

তথ্যানুসন্ধানে পুটখালী গ্রামের ১৪ বছরের কিশোর হাবিবুর রহমান(১৪) জানায়, গত শুক্রবার সকাল ৮টার সময় বাবার নির্দেশ মোতাবেক একই গ্রামের ইজাজুলের বাড়িতে যাচ্ছিলাম বাঁশ বিক্রির ৫’শ টাকা আনতে। পথিমধ্যে বিজিবি সদস্যরা গতিরোধ করে ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে যায়। পরে থাপ্পর ও  লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। বলে, তুই ব্লাক করিস। সাথে থাকা পিলাস (লোহার তৈরি যন্ত্র) বের করে আমার হাত ও পায়ের নোখসহ সমস্ত শরীরে চেপে চেপে ধরে। প্রচন্ড আঘাত করে। যে কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। বলে, বল! তুই হুন্ডির টাকা পাঁচার করিস এবং তোর হুন্ডির টাকা সিরাজ সরবরাহ করে। তাহলে তোকে ছেড়ে দিয়ে সিরাজকে ধরে আনব। আমি সিরাজকে চিনি না বললে আরো জোরে পিলাস দিয়ে চেপে ধরে। অজ্ঞান হয়ে গেলে মাথায় পানি দিয়ে হুস ফেরায়। কিছুক্ষণ পরে পুটখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান এসে ভালো ছেলে আখ্যা দিয়ে জিম্মানামায় সই করে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।

কথা হয় পুটখালী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ইদ্রিস আলীর পরিবারের সদস্যদের সাথে। বলে, কয়েকদিন যাবত বিজিবি সদস্যরা তাদের বাড়িতে আসছে ইদ্রিস আলীকে আটক করার জন্য। এই অমানুষিক নির্যাতন আর মামলার ভয়ে ইদ্রিস আলী স্বপরিবারে গ্রাম ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

কথা হয় একই গ্রামের রুপালী বেগম’র পরিবারের সদস্যদের সাথে। বলে, কয়েক দিন যাবত রুপালীসহ তার পরিবারের সদস্যদের খুজে বেড়াচ্ছে বিজিবি সদস্যরা। এখন ওই পরিবারটি গ্রামছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

তথানুসন্ধানে আরো যা জানাযায়, গত ২৫ আগষ্ট রাত আড়াইটার সময় পুটখালী গ্রামের জহুর আলীর ছেলে আব্দুস সালামকে তার বাড়ি থেকে ডেকে আনেন বিজিবি সদস্যরা। পরে অমানুষিকভাবে শারিরিক নির্যাতন করে ২০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার দেখিয়ে পোর্ট থানায় সোপর্দ করে। একমাত্র আয় রোজগারকারি সদস্য জেল হাজতে থাকায় পরিবারটি এখন অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। এছাড়া, একই গ্রামের সাফেদ আলীর ছেলে ইয়াকুবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বেদম মারপিঠ করে ২০ বোতল ও ছহির হোসেনকে ডেকে নিয়ে ২০ বোতল ফেন্সিডিল দিয়ে  মামলা দেয়।

একই গ্রামের আতিয়ারের ছেলে লুকমান হোসেনকে ২০ বোতল, মৃত সামছুর কসাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমকে ২০ বোতল ও সহোদর সুকচান আলীকে ২০ বোতল, মৃত নুরুল হক নুরোর ছেলে আদম আলীকে ২০ বোতল, রবিউল ইসলামের ছেলে মনিরুজ্জামানকে ২০ বোতল, মৃত আয়তাল মল্লিকের ছেলে হানেফ আলীকে ২০ বোতল, মৃত মুনছুর ধাবকের ছেলে মশিয়ার রহমানকে ধরে ২০ বোতল করে ফেন্সিডিল দিয়ে মামলা দেয় বিজিবি সদস্যরা।

যাকে তাকে ধরে উপর্যপরি মারধর করে ২০ বোতল করে ফেন্সিডিলের মামলা দেওয়ায় পুটখালী এলাকার মানুষ এখন ত্রাসের মধ্যে বসবাস করছে। কখন বিজিবি আসবে এমন ভয়ে থাকারা গ্রাম ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বাড়ি ঘর গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এমন কয়েক জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা পুটখালী গ্রামের আজিজুলের ছেলে কদম আলী, কাদেরের ছেলে মনিরুল ইসলাম, ইসমাইল সর্দারের ছেলে আলম, মিলন প্রমুখ।

বিষয়গুলি স্বীকার করে পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান বলেন, বিগত কয়েকদিন পূর্বে অহেতুক হাবিবুর নামের এক কিশোরকে বিজিবি সদস্যরা আটক করে খুব মারধর করে। পিলাস দিয়ে তার হাত ও পায়ের নোখসহ সমস্ত শরীরে চেপে আঘাত করে। পরে তাকে আমি নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। এ ধরণের ঘটনা প্রতিনিয়ত অহরহ ঘটছে। আর কত জিম্মায় নেব? প্রতিনিয়ত বিজিবির সাথে কথা কাটাকাটি হচ্ছে। অহেতুক ভালো মানুষদের ধরে প্রচন্ড মারধর এবং ২০ বোতল করে ফেন্সিডিল দিয়ে মামলা দেওয়াটা খুবই দুঃখজনক বলেও জানালেন তিনি।

এ বিষয়ে ২১ বিজিবি ব্যালিয়নের কমান্ডিং অফিসার(সিও)’র নাম্বারে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোনটি রিসিভ না করে কেটে দেন।

উল্ল্যেখ্য, ইতিমধ্যে শার্শা আফিল জুট এন্ড উইভিং মিলস লিমিটেডের প্রতিবন্ধী শ্রমিকসহ ৮/১০ জন শ্রমিক মিলের কাজ সেরে বাড়িতে যাওয়ার সময় ধান্যখোলা গ্রামে পথ গতিরোধ করে বিজিবি সদস্যরা। পরে, তোরা ব্লাক করিস বলে প্রত্যেককে থাপ্পঢ় মারতে থাকে। না! এমপি সাহেবের মিলে কাজ করি বললে বলে, কাজে যাবিনা। কি করে খাব, জিজ্ঞাসা করলে হাতে থাকা বাশেঁর লাঠি দিয়ে প্রত্যেককে কুকুরের মতো পিটাতে থাকে বিজিবি সদস্যরা। সেথেকে অধ্যবধি অনেক শ্রমিক ভয়ে কাজ করতে আসেনি মিলটিতে।  যে সংবাদটি অনেক স্থানীয় পত্রিকাসহ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের। ফলে সীমান্তবাসীর উপর বিজিবির অত্যাচরের মাত্রা দিন বেড়ে যাচ্ছে। যা অব্যাহত থাকলে এক সময় বিজিবির ভয়ে গ্রামগুলো মানুষ শুন্য হবে বলে মতামত প্রকাশ করেছেন জন প্রতিনিধিত্বকারিগণ।

শার্শা আফিল জুট এন্ড উইভিং মিলস লিমিটেডের ম্যানেজার বলেন, এলাকার মানুষের দুঃখ দূর্দশার কথা ভেবে শার্শার এমপি শেখ আফিল উদ্দিন এখানে মিলটি স্থাপন করেছেন। এ উপজেলার প্রতিবন্ধী মানুষসহ স্বামী পরিত্যাক্তা ও সুযোগ বঞ্চিত কর্মক্ষম মানুষরা এখানে কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করে। ইতিমধ্যে কাজ শেষে শ্রমিকরা বাড়িতে ফিরছিল। পথিমধ্যে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে মারধর করে এবং মিলে আসতে নিষেধ করে। তারা যদি শ্রমিকের উপর এভাবে লাঠি চার্য করে তাহলে একসময় একদিকে যেমন অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে অর্ধাহার অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করবে অন্যদিকে শ্রমিক অভাবে মিলটি বন্ধ হয়ে যাবে।

চলবে...............

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ allbdlive@gmail.com
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ প্রকাশক ॥ মো: রাসেল মোবাইল ॥ 01881-814888 অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫ পত্রিকার টেডলাইসেস নম্বর ৪০৩৭